রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ থামাতে তিন দফা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা দিয়েছে ভারত। প্রস্তাবে জ্বালানি অবকাঠামো, কৃষিপণ্য ও জ্বালানি পরিবহন এবং কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর গত মাসে কিয়েভ সফরের সময় ইউক্রেনের কাছে এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। ইউক্রেনও ভারতের কাছ থেকে এমন একটি প্রস্তাব পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে।
কী আছে ভারতের প্রস্তাবে
ভারতের পরিকল্পনার প্রথম দিকটি হলো জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করা।
দ্বিতীয়ত, কৃষ্ণসাগরের বন্দর দিয়ে শস্য ও জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখার কথা বলা হয়েছে।
তৃতীয়ত, কৃষ্ণসাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে নয়াদিল্লি।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে নিয়ে ভারতের প্রস্তাবটি তৈরি করা হয়েছে। এ কারণে এটি অন্য কয়েকটি দেশের যুদ্ধবিরতি উদ্যোগের চেয়ে বিস্তৃত।
ইউক্রেনের হাতে আরও তিন প্রস্তাব
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভারতসহ চারটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগের প্রস্তাব পেয়েছে কিয়েভ। অন্য তিনটি প্রস্তাব গেছে তুরস্ক, মিশর ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
সিবিহার ভাষ্য, ভারতের প্রস্তাব চারটির মধ্যে সবচেয়ে বিস্তৃত। তিনি বলেন, ইউক্রেন বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিরতি উদ্যোগ বিবেচনা করতে প্রস্তুত।
তবে কোনো চুক্তিতে শুধু স্থল ও আকাশে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয় থাকলে হবে না। জ্বালানি ও বন্দর অবকাঠামোয় হামলা এবং কৃষ্ণসাগরের পরিস্থিতিও এতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
অন্য প্রস্তাবের সঙ্গে পার্থক্য
ভারতের প্রস্তাবের সঙ্গে তুরস্ক ও মিশরের উদ্যোগের কিছু পার্থক্য রয়েছে। তুরস্ক ও মিশরের প্রস্তাব মূলত কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর জন্য বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের মূল বিষয় হলো জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করা।
ভারতের পরিকল্পনায় এই দুই বিষয়কে কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধের প্রস্তাবের সঙ্গে একত্র করা হয়েছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা ভারতের
ভারত এত দিন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। নয়াদিল্লি যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানালেও রাশিয়ার সরাসরি সমালোচনা করা থেকে বিরত থেকেছে। এর পেছনে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
তবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর সম্প্রতি বলেছেন, নয়াদিল্লি এখন শুধু যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে থেমে নেই। রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই পক্ষের সঙ্গেই বাস্তবভিত্তিক আলোচনা করছে ভারত।
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা এবং জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের বিষয়ও ছিল।
মধ্যস্থতায় বড় ভূমিকা নিতে চায় দিল্লি
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে। দীর্ঘ এই সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে। এবার ভারতও আলোচনার মধ্যস্থতায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নয়াদিল্লির তিন দফা প্রস্তাব বাস্তবে কতটা অগ্রগতি আনতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: এনডিটিভি
এ ইউ/














Discussion about this post