সংবাদ উপস্থাপকদের জন্য সম্প্রতি ‘ড্রেস কোড’ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করেছিল বাংলাদেশ বেতার। এ নিয়ে শুরু হয়েছে নানান আলোচনা-সমালোচনা। তবে সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ আগের নির্দেশনা প্রত্যাহার করে নতুন অফিস আদেশ জারি করেছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, বেতারের অনুষ্ঠানে ড্রেস কোডের প্রয়োজন কী।
সম্প্রতি বাংলাদেশ বেতারের বার্তা বিভাগের উপমহাপরিচালক তানিয়া নাজনীন সই করা এক অফিস আদেশে ফেসবুক লাইভে সংবাদ বুলেটিন প্রচারের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ উপস্থাপকদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাকবিধি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনায় নারী সংবাদ উপস্থাপকদের ওড়নাসহ ফুলহাতা সাদামাটা সালোয়ার-কামিজ বা শাড়ি পরতে বলা হয়। একইসঙ্গে কপালে বড় টিপ পরা ও একপাশে ওড়না রাখার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ ছিল।
অন্যদিকে পুরুষ উপস্থাপকদের ফুলহাতা শার্ট ও টাই পরার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে উৎসব বা পার্বণে পাঞ্জাবি পরার অনুমতি থাকলেও টি-শার্ট ও গেঞ্জি পরা যাবে না বলে জানানো হয়েছিল।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই এই নির্দেশনাকে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক চর্চার ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দেন। পরে বেতারের বার্তা বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মুহাম্মদ শরীফুল কাদের গণমাধ্যমকে বলেন, শালীনতা বজায় রাখার জন্যই বিষয়টি বলা হয়েছিল। তবে ভাষাগত কিছু ত্রুটি থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘ড্রেস কোড’ নিয়ে মূল সমালোচনাটা উঠলেও কেউ কেউ বলছেন, বেতার একটি ‘শ্রুতিনির্ভর’ মাধ্যম, আর টেলিভিশন ‘দৃশ্যনির্ভর’। তাই দুই মাধ্যমের উপস্থাপনা সংস্কৃতিও আলাদা। রেডিওতে শ্রোতা উপস্থাপকের পোশাক, চেহারা বা মেকআপ দেখেন না। তারা শোনেন কণ্ঠ, ভাষা, আবেগ, রসবোধ ও উপস্থাপনার ধরন। ফলে দক্ষতার কেন্দ্র থাকে ভয়েস পারফরম্যান্সে, বাহ্যিক উপস্থিতি নয়।
বিশেষ করে এফএম রেডিও সংস্কৃতিতে আরজে-রা বন্ধুসুলভ, প্রাণবন্ত ও ‘ঘরের মানুষের মতো’ ইমেজ তৈরি করেন। ফলে কর্মপরিবেশও তুলনামূলকভাবে কম আনুষ্ঠানিক হয়। তারপরও বাংলা বেতারে কেন ‘ড্রেস কোড’ দিতে হলো।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকাসহ দেশে বেতার স্টেশন আছে ১৪টি। এসব কেন্দ্র থেকে বেতার তরঙ্গের পাশাপাশি বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয়।
ফেসবুক পেজগুলোর গত কয়েকদিনের অনুষ্ঠান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশ বেতার ময়মনসিংহ থেকে নিয়মিতই হারানো দিনের গানের অনুষ্ঠান ‘সোনালী সুর’, কৃষি বিষয়ক ফোন ইন অনুষ্ঠান ‘কৃষির কথা’; বাংলাদেশ বেতার, রংপুর থেকে কৃষিজীবীদের জন্য ফোন-ইন অনুষ্ঠান ‘ক্ষেতে খামারে’, খেলা বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘মাঠে ময়দানে’, স্বাস্থ্য বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘আপনার স্বাস্থ্য’; বাংলাদেশ বেতার, গোপালগঞ্জ থেকে শ্রোতাদের অনুরোধের গান নিয়ে অনুষ্ঠান ‘আমার প্রিয় গান’ এবং বাংলাদেশ বেতার, কুমিল্লা থেকে কৃষিবিষয়ক ফোন ইন অনুষ্ঠান ‘সুজলা সুফলা’ নিয়মিতই সম্প্রচার হচ্ছে। এসব অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ও অতিথিরা অংশ নিচ্ছেন।
আর এসব অনুষ্ঠান উপস্থাপনার জন্যই এই অফিস আদেশ জারি করে বাংলাদেশ বেতার।
এম এইচ/














Discussion about this post