জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত বিভিন্ন সঞ্চয় কর্মসূচির মুনাফার হার আগামী ছয় মাসের জন্যও অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারীরা আগের হারেই মুনাফা পাবেন। স্কিমভেদে সর্বোচ্চ মুনাফার হার থাকবে ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত সঞ্চয় কর্মসূচির মুনাফার হার বছরে দুই দফায় নির্ধারণ করা হয়। প্রথম দফা ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন এবং দ্বিতীয় দফা ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকে। তবে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধের জন্য নতুন কোনো হার নির্ধারণ না করে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর থাকা মুনাফার হারই বহাল রাখা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে পাঁচটি সঞ্চয় কর্মসূচির মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। কিন্তু ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার মুখে মাত্র চার দিনের মাথায় সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে আগের হার পুনর্বহাল করা হয়। এবারও বছরের শেষ ছয় মাসের জন্য একই হার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, সঞ্চয় বিভাগ থেকে জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের জন্য নতুন করে মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে সেই উদ্যোগ থেকে সরে এসে বিদ্যমান হারই বহাল রাখা হয়েছে।
সরকারের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারীদের দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা প্রথম ধাপে এবং এর বেশি বিনিয়োগকারীরা দ্বিতীয় ধাপে রয়েছেন। দুই শ্রেণির জন্য বিভিন্ন সঞ্চয় স্কিমে মুনাফার হারে কিছু পার্থক্য রয়েছে।
বর্তমান হার অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র এবং পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিট স্কিমে মেয়াদপূর্তির আগে নগদায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ধাপভিত্তিক মুনাফা বহাল থাকবে। এসব স্কিমে সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত হবে।Maps
সরকারের এ সিদ্ধান্তে সঞ্চয়পত্রের বর্তমান বিনিয়োগকারীরা আগের মতোই মুনাফা সুবিধা ভোগ করতে পারবেন এবং আগামী ছয় মাসে তাদের জন্য মুনাফার হারে কোনো পরিবর্তন আসছে না।
এ ইউ/














Discussion about this post