ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মাদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র জুনের সমঝোতা স্মারকের আওতায় থাকা শর্তগুলো পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা হবে না। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, একতরফা দাবি নিয়ে আলোচনা দীর্ঘায়িত করার সময় শেষ হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ইরানের কাছে কিছু প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট এবং এতে কোনো একতরফা মার্কিন দাবি মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই।
গালিবাফের ভাষায়, ‘সময় নষ্টের যুগ’ শেষ হয়েছে। জুনে করা ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ হলেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি। তবে তিনি তার বক্তব্যে সাতটি শর্ত আলাদা করে প্রকাশ করেননি।
এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ইরান জানিয়েছিল, নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনা যেতে পারে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিও এ বিষয়ে একই ধরনের বক্তব্য দেন। যুক্তরাষ্ট্র কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে বলে জানা গেছে।
জুনের সমঝোতা স্মারকটি সংঘাত বন্ধ করা এবং পরবর্তী আলোচনার পথ তৈরি করার জন্য করা হয়েছিল। এতে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা, নজরদারি ও বিরোধ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চালানোর কাঠামো নির্ধারণের কথা ছিল।
তবে জুলাইয়ে ওই সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আবার তীব্র হয়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় এবং ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
রয়টার্স ও এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গালিবাফের বক্তব্যে সাতটি শর্তের কথা উল্লেখ থাকলেও তিনি সেগুলো পৃথকভাবে প্রকাশ করেননি। ফলে শর্তগুলোর পূর্ণ তালিকা নিয়ে অনুমানভিত্তিক তথ্য প্রকাশ না করাই নিরাপদ।
সূত্র: রয়টার্স, এএনআই
এস আই/














Discussion about this post