মাঝ আকাশে সহকারী পাইলটের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছার। সেখানে তার সঙ্গে দেখা করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স ও উপ-প্রধানমন্ত্রী শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, সাক্ষাৎ শেষে শেখ হামদান পাইলটের প্রতি ‘পূর্ণ কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা’ প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে এবং দেশের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তার প্রতি পূর্ণ কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা রয়েছে।’
ওই পোস্টে প্রকাশিত ছবিতে শেখ হামদানকে স্মিতের সঙ্গে কথা বলতে ও তাকে আলিঙ্গন করতে দেখা যায়। তিনি আরো লিখেন, আমরা গর্বিত যে তিনি আমাদের দলের অংশ, আমাদের দেশের গল্পের অংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত যে মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে—সহমর্মিতা, শান্তি ও জীবনের—তারও অংশ।
প্রসঙ্গত, দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটের ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। তার সহকারী পাইলট ছিলেন ওমানের নাগরিক হামাম আলহাম্মামি। অভিযোগ রয়েছে, বিমানটি বিধ্বস্ত করার উদ্দেশ্যে তিনি ককপিটে থাকা ক্র্যাশ অ্যাক্স দিয়ে স্মিতের ওপর আকস্মিক হামলা চালান।
দুই পাইলটের মধ্যে ধস্তাধস্তির সময় বিমানটি কয়েক মিনিটের মধ্যে হাজার হাজার ফুট নিচে নেমে যায় এবং দুর্ঘটনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।
গুরুতর আহত অবস্থাতেও স্মিত উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহস দেখিয়ে ককপিটের দরজা খুলে যাত্রীদের সতর্ক করেন। যাত্রীরা দ্রুত ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করে বিমানটি স্থিতিশীল করে। পরে দায়িত্বের বাইরে থাকা পাইলটরা বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করান।
এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্মিতের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন।
এদিকে, বিমানটি বিধ্বস্ত করার কথিত প্রচেষ্টার পেছনে সহ-পাইলটের উদ্দেশ্য তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উগ্র মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে এর আগে আলহাম্মামিকে ওমানে উড়োজাহাজ চালানো থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বে তদন্ত চলছে। ঘটনাটির সঙ্গে কোনো ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা উদ্দেশ্য’ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটি।
এস আই/














Discussion about this post