যুদ্ধ ও অব্যাহত সীমানা লঙ্ঘনের মধ্যে গাজার মানুষরা রমজান মাস পালন করছেন স্মৃতিতে লীন হয়ে। হারানো জীবন ও প্রিয়জনের ভাবনায় ডুবে।
২৫ বছর বয়সী ব্যবসায়ী আমজাদ জুদেহের জীবনে সুখের রমজান স্মৃতি ছিল পিতার ও ভাইদের সঙ্গে হাতে হাত ধরে রাতে বিশেষ তারাবি নামাজে মসজিদে যাওয়া। তিনি বলেন, ‘আমরা হাত ধরে মসজিদে যেতাম, কিন্তু এ বছর আমি একাই যাচ্ছি।’
গত দুই বছরের গণহত্যার ফলে গাজায় ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। সীমানা লঙ্ঘনের কারণে রমজানের নৈশ নামাজ, পরিবার ও কমিউনিটি মিলন, যা একসময় রমজানের মূল আকর্ষণ ছিল, এখন প্রায় বিলীন। অনেক মসজিদ ধ্বংস হয়ে গেছে।
আমজাদ তার পুরো পরিবার (পিতা-মাতা ও চার ছোট ভাইবোন) একটি বিমান হামলায় হারিয়েছেন। তার বাড়ি ভাঙা, দেয়ালে গুড়ির চিহ্ন, এবং প্রতিদিনের মাগরিব নামাজের সময় স্মৃতির আঘাত আরও তীব্র হয়।
এমন পরিস্থিতি সত্ত্বেও মানুষ রমজানের কিছু আভাস ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। ৪১ বছর বয়সী সানআ আল-শারবাসে তিন সন্তানকে নিয়ে তীরে একটি তাবুতে বসে জানান, ‘প্রতি বছর আমি লণ্ঠন কিনতাম, এবার তা হয়নি। এ বছরের রমজান তার আগে যেগুলো ছিল তার মতো হবে না।’
অর্থনৈতিক সংকট ও যুদ্ধের ক্ষতচিহ্নের মধ্যে সানা পরিবারকে রমজান উৎসবের কিছু খুঁটিনাটি উপায় দেখানোর চেষ্টা করছেন—হাতের তৈরি কাগজের লণ্ঠন ঝুলিয়ে।
তিনি বলেন, ‘সন্তানরা জিজ্ঞেস করলে বলি, ‘পরের সপ্তাহে’… জানি, সেই সপ্তাহ সম্ভবত কখনো আসবে না।’
৪২ বছর বয়সী ইহাব হাসানেইনের জন্য রমজান এসেছে স্ত্রীকে হারানোর দুঃখের সাথে। ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের রমজান খাবারের মুহূর্তগুলো এখন শূন্য। তিনি শিশু সন্তানদের সঙ্গে তার স্ত্রীর স্মৃতিকে জীবিত রাখার চেষ্টা করছেন।
এ বছর গাজায় রমজান আগের মতো নয়। যুদ্ধ বহু স্মৃতি ছিন্ন করেছে। তবে ছোট ছোট আচার-অনুষ্ঠান ও ব্যক্তিগত রীতি এখনো মানুষের হৃদয়ে জীবন্ত।
আমজাদ একাকীত্ব সহ্য করার চেষ্টা করছেন। সানা কাগজের লণ্ঠন বানাচ্ছেন। ইহাব প্রতিটি ইফতার ও সাহুরে স্ত্রীর স্মৃতি বাঁচাচ্ছেন। রমজানকে মানুষ ধরে রাখছেন, যা অস্থিরতায় এক প্রকার আধ্যাত্মিক আশ্রয় জুগাচ্ছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
এম এইচ/














Discussion about this post