নেপালের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা রৌতহাটের রামপুর খাপ এলাকায় এক অভাবনীয় ও বীরত্বগাথা ঘটনার সাক্ষী হলো বিশ্ববাসী। যখন শত শত উগ্র হিন্দুত্ববাদী উন্মত্ত জনতা একটি স্থানীয় মসজিদে হামলার উদ্দেশ্যে ধেয়ে আসছিল, তখন তাদের সামনে পাহাড়ের মতো অটল হয়ে দাঁড়িয়ে যান এক শারীরিক প্রতিবন্ধী মুসলিম যুবক। অভূতপূর্ব সাহসিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা ব্যক্তির নাম শেখ আমিরুল্লাহ বলে জানা গেছে।
উন্মত্ত জনতার বিরুদ্ধে ইমানি চেতনায় বলিয়ান প্রতিবন্ধী এই যুবকের অদম্য সাহসিকতার গল্প এখন বিশ্বজুড়ে ভাইরাল। মাত্র একটি পা এবং হাতে একটি লাঠি সম্বল করে তিনি যেভাবে কয়েকশ আক্রমণকারীকে রুখে দিয়েছেন, তাকে নেটিজেনরা ‘সিংহের সাহসিকতা’র সঙ্গে তুলনা করছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামপুরের ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর একদল উগ্রবাদী লাঠিসোটা নিয়ে মসজিদের দিকে অগ্রসর হয়। মসজিদের নিরাপত্তা যখন চরম ঝুঁকির মুখে, তখন ওই যুবক একাই সামনে এগিয়ে আসেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তার চোখে-মুখে ছিল অদম্য সাহস এবং ইমানি দৃঢ়তা।
যখন শত শত উন্মত্ত মানুষ মসজিদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করছিল, তখন লাঠিতে ভর দিয়ে চলা শেখ আমিরুল্লাহ একাই মসজিদের প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে যান। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি বিন্দুমাত্র পিছু হটেননি। তাকে দেখে আক্রমণকারীরা থমকে দাঁড়াতে বাধ্য হয়। এক পায়ে ভর দিয়ে এবং হাতে একটি লাঠি নিয়ে তিনি উত্তেজিত ভিড়কে মসজিদের দিকে আসতে বাধা দেন।
উগ্রবাদী জনতার বিশাল সংখ্যার বিপরীতে তিনি ছিলেন একা, কিন্তু তার সাহসিকতার কাছে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই যুবকের দৃপ্ত ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছিল তিনি একাই এক হাজার আক্রমণকারীর বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা রাখেন।
এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে নেটিজেনরা আমিরুল্লাহর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। নেটিজেনরা তাকে ‘‘এক পায়ের সিংহ’’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আমিরুল্লাহর সেই মুহূর্তের তেজ এবং দৃঢ়তা ছিল রূপালী পর্দার বীরদের মতোই অবিস্মরণীয়।
অনেকে মন্তব্য করেছেন, ‘‘একজন প্রতিবন্ধী সিংহ, ১০০টি হায়েনার বিরুদ্ধে একাই যথেষ্ট।এটি কেবল শারীরিক শক্তি নয়, বরং অটল বিশ্বাস এবং সাহসের পরিচয়।’’অন্য একজন নেটিজেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘বলিউড হয়তো এই ঘটনা নিয়ে সিনেমা বানাবে, কিন্তু তারা বরাবরের মতো সত্যকে আড়াল করে চরিত্রগুলোকে উল্টে দেবে। বাস্তব নায়ক এই একপেয়ে যুবকটিই।’’
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কেবল শারীরিক শক্তির লড়াই ছিল না, বরং এটি ছিল অটল বিশ্বাসের প্রতিফলন। কোনো অস্ত্র ছাড়াই কেবল সাহসের ওপর ভর করে শত শত আক্রমণকারীকে প্রতিহত করার এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, ইমানি শক্তি থাকলে কোনো বাধাই বড় নয়। নেপালের রামপুরের এই ঘটনা এখন সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের কাছে সাহসের নতুন এক প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এম এইচ/














Discussion about this post