নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ১৩ নভেম্বর ‘ঢাকা লকডাউন’-এর পরিকল্পনা করেছে বলে খবর পাওয়ার পর ওই দিন যেকোনো ধরনের সহিংস বিক্ষোভ প্রতিরোধ করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো পূর্ণ-মাত্রার অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যেকোনো সম্ভাব্য হুমকি এড়াতে পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য ইউনিটের প্রায় ৬০ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হতে পারে।
শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উচ্চ-পর্যায়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে, মিছিল বা সমাবেশ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে তাদের কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।
পুলিশের গোয়েন্দা সূত্র সতর্ক করেছে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুলসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা টার্গেট করা হতে পারে। ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের আশঙ্কা রয়েছে। গত দুই দিনে রাজধানীর বেশ কয়েকটি স্থানে অন্তত ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য বোমা প্রস্তুতকারীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানো পোস্টগুলো পর্যবেক্ষণ করছে।
এদিকে এগিয়ে আসছে নির্বাচনের দিনও। এ অবস্থায় দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ফেলতে অনলাইনে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে রাজনীতিতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে নানা গুজব, হুমকি আর ষড়যন্ত্রের বার্তা।
বিভিন্ন পোস্টে বলা হচ্ছে, ১৩ তারিখ রাজধানীতে লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির পরিকল্পনা চলছে। লকডাউন কার্যকর, সরকারি স্থাপনায় হামলা আর বাসে আগুন দেওয়ার মতো অপতৎপরতার প্রস্তুতি নিচ্ছে নিষিদ্ধ দলটি- এমন তথ্যও ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত এসব তথ্যের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঝুঁকি এড়াতে সব তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে বিশৃঙ্খলা ঠেকানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রাজধানীসহ সারাদেশে চেকপোস্ট, তল্লাশি আর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অভিযান আরও জোরদার হবে আজ (সোমবার) থেকে। এরইমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
ডিএমপির মিডিয়া শাখার উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করছি। কেউ নৈরাজ্য পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইনগতভাবে মোকাবিলা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন জায়গায় থেকে লোক জড়ো করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করতে চাইলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে। আশা করি নগরবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।
উল্লেখ্য ওই দিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করার কথা রয়েছে। এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিচার চলছে।
এ ইউ/














Discussion about this post