একটি মৃত্যু বদলে দিয়েছে তার চিন্তা। বজ্রপাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শেখ সাকিবুর রহমান। সেই শোকই তাকে উদ্বুদ্ধ করেছে নতুন এক উদ্যোগে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাত প্রতিরোধে সহায়ক বৃক্ষ রোপণের কাজ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের এই শিক্ষার্থী।
২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর বজ্রাপাতে মারা যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে ঘটনাটি গভীরভাবে নাড়া দেয় সাকিবকে। এরপর বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বৃক্ষরোপণকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেন তিনি। প্রতিষ্ঠা করেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘গাছ বন্ধু নেটওয়ার্ক’।
সাকিব জানান, রাশেদুল ইসলামের মৃত্যুর এক সপ্তাহের মধ্যেই সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। এরপর থেকে নিজস্ব অর্থায়নে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাত প্রতিরোধে কার্যকর বলে বিবেচিত গাছের বীজ ও চারা রোপণের কাজ করছেন তিনি।
সম্প্রতি নড়াইল থেকে ঢাকা পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার রেলপথজুড়ে বীজ ছিটানোর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন সাকিব। গত ৯ জুন নড়াইলের লোহাগড়া থেকে জাহানাবাদ এক্সপ্রেসে ঢাকা কমলাপুর পর্যন্ত যাত্রাপথে রেললাইনের দুই পাশে প্রায় ২০ হাজার খেজুরের বীজ ও ১ হাজার কাঁঠালের বীজ ছিটিয়ে দেন তিনি।
নিজের এই উদ্যোগের বিষয়ে সাকিব বলেন, রাশেদ ভাইয়ের মৃত্যু আমাকে খুব কষ্ট দিয়েছিল। তখন থেকেই ভাবছিলাম, বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে ব্যক্তিগতভাবে কিছু করা যায় কি না। সেই ভাবনা থেকেই ‘গাছ বন্ধু নেটওয়ার্ক’-এর যাত্রা। আমি চাই না ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবার এভাবে তাদের প্রিয়জনকে হারাক।
এর আগে তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৭০০টি তালগাছ রোপণ করেছেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে সংগ্রহ করা প্রায় ৫০টি বটগাছের বীজ আশপাশের গ্রামাঞ্চলের খোলা জায়গায় রোপণ করেছেন। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে আরও অন্তত ১০ হাজার তালবীজ রোপণের পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
পরিবেশবিদেরা বলছেন, তাল, খেজুর ও বটের মতো দীর্ঘজীবী বৃক্ষ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাসেও ভূমিকা রাখতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
সূত্রঃ আরটিভি
এম এইচ/














Discussion about this post