যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি দেশ এবং হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে একযোগে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। ওমান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং দেশটির সেনাবাহিনী। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে আইআরজিসি জানিয়েছে, ওমানের দুকম বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীগুলোর জন্য ব্যবহৃত লজিস্টিক সহায়তা কেন্দ্র এবং জ্বালানি সরবরাহ প্ল্যাটফর্মে ভয়াবহ ও আকস্মিক হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। আইআরজিসি এটিকে তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযানের তৃতীয় ধাপ বলে উল্লেখ করেছে।
একই সময়ে কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতেও একাধিক দফায় ড্রোন হামলা চালায় ইরানের সেনাবাহিনী। বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করে কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গোলাবারুদের গুদাম এবং একটি রাডার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি, বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং রাডার স্থাপনাও এই ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী।
ড্রোন হামলার পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করেছে ইরান। আইআরজিসি দাবি করেছে, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস করা হয়েছে।
এছাড়া জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতেও কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এই হামলায় ওই ঘাঁটির একটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং এমকিউ-৯ ড্রোন রাখার কয়েকটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস করা হয়েছে বলে আইআরজিসির বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
হামলার পর বিভিন্ন দেশ তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার কথা জানিয়েছে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা প্রজেক্টাইলগুলো প্রতিহত করা হচ্ছে এবং আকাশে শোনা যাওয়া বিস্ফোরণের শব্দ মূলত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমেই হামলা ঠেকানোর ফল। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও সফলভাবে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে।
হামলার পর কাতার ও বাহরাইনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরপর দুবার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের ঘরের ভেতরে বা নিরাপদ স্থানে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছে। বাহরাইনেও একাধিকবার সাইরেন বাজিয়ে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
সূত্র: আল জাজিরা
এস আই/














Discussion about this post