ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ভবনে ৬ মে ২০২৬ (বুধবার) “অভিবাসী সম্মেলন ২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়েছে। সারাদেশ থেকে আগত প্রায় ৩০০ অভিবাসী কর্মীর অংশগ্রহণে সম্মেলনটি আয়োজন করে অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ)। এটি Strengthened and Informative Migration Systems (SIMS) প্রকল্পের আওতায়, বাংলাদেশে সুইস দূতাবাসের অর্থায়নে এবং Helvetas Swiss Intercooperation, Bangladesh-এর সহায়তায় বাস্তবায়িত হয়।
সম্মেলনে বিদেশ ফেরত অভিবাসী শ্রমিক, নীতিনির্ধারক, সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী এবং তৃণমূল পর্যায়ের অংশীজনরা অংশ নেন। এতে অভিবাসন বাস্তবতা নিয়ে একটি সমন্বিত সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল অভিবাসীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা, কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ বিশ্লেষণ এবং নিরাপদ, স্বচ্ছ ও অধিকারভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থার পথ খুঁজে বের করা।
স্বাগত বক্তব্যে ওকাপের নির্বাহী পরিচালক ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, “রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিটি সাব-এজেন্টকে লাইসেন্সের আওতায় আনা প্রয়োজন।” Helvetas-এর প্রজেক্ট ডিরেক্টর প্রেমাংশু শেখর সরকার বলেন, “স্কিলভিত্তিক বিদেশগমন বাড়াতে পিডিএমও প্রশিক্ষণ আরও বিস্তৃত করা জরুরি।”
সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল অভিবাসীদের অভিজ্ঞতা বিনিময় সেশন। এতে অংশগ্রহণকারীরা উচ্চ অভিবাসন ব্যয়, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তিকর তথ্য, কর্মক্ষেত্রে শোষণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। এক অভিবাসী শ্রমিক বলেন, “আমরা রেমিট্যান্স যোদ্ধারা অনেক কষ্ট করে দেশে টাকা পাঠাই। প্রতিটি জেলা হাসপাতালে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সেবা থাকলে উপকার হবে।”
“সংহতি প্রকাশ (Voice of Solidarity)” সেশনে সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধিরা অভিবাসন ব্যবস্থার শাসনগত দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং জবাবদিহিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও বক্তব্য রাখেন। বিএমইটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আশরাফ হোসেন বলেন, “বিদেশ যাওয়ার আগে দক্ষতা ও ভাষা শেখা এবং বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী কাগজপত্র থাকলে আমরা অবশ্যই সেবা নিশ্চিত করবো।” প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী জানান, সাব-এজেন্টদের নথিভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসডিসির নাজিয়া হায়দার, আইএলও-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন এবং বিলস-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ। তারা অভিবাসন খাতে বহুপক্ষীয় সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। নাজিয়া হায়দার পুনর্বাসনে জোর দেন, ম্যাক্স টুনন বলেন বাংলাদেশি শ্রমিকদের অভিবাসন ব্যয় তুলনামূলক বেশি, আর সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ অভিবাসী পরিবারের সামাজিক সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, এমপি। তিনি বলেন, “মালয়েশিয়া করিডোর নিয়ে সরকার কাজ করছে এবং বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর চেষ্টা চলছে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর মান যাচাই এবং অসুস্থ হয়ে ফেরা কর্মীদের সহায়তা বাড়ানো হবে।”
সমাপনী বক্তব্যে ওকাপের চেয়ারপারসন শাকিরুল ইসলাম বলেন, “ভিসা ট্রেডিং, অতিরিক্ত ব্যয় ও সিন্ডিকেট ভাঙতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি।”
অভিবাসী সম্মেলন ২০২৬ একটি গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্ভুক্তিমূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে, যা প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ এবং মানবাধিকারভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।
এস আই/














Discussion about this post