কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে আর কোনোদিন রাজনীতি করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জুলাই জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্যকালে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই বাংলাদেশ রক্তে রঞ্জিত হয়েছে, এই মানচিত্র রক্তে রঞ্জিত হয়েছে শহিদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে। ৫ আগস্ট আমরা বিজয় অর্জন করেছি। সেখানে রাজনৈতিক পরিচয় যদি বিবেচনা করি, তাহলে সর্ববৃহৎ অংশটি থাকবে জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির, ছাত্রদলের, যুবদলের অঙ্গসংগঠনের।
শহিদদের প্রকৃত সংখ্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতিসংঘের রিপোর্টে ১৪শ শহিদের কথা বলা আছে। কিন্তু বিভিন্ন পত্রিকা এবং জরিপে ৭ থেকে ৮শ’র খতিয়ান পাওয়া যায়। বাকিগুলো গেল কোথায়? কারণ, শহিদের খতিয়ান হাসপাতাল রক্ষা করতে পারেনি। তাদের নথিপত্রও গায়েব করে দেয়া হয়েছে। বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে তাদের দাফন করা হয়েছে। এজন্য আজকে স্বজনরা কবরের সন্ধান করে, কিন্তু আমরা দিতে পারি না।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড-গণহত্যার পরও আজ পর্যন্ত সেই গণহত্যাকারী শেখ হাসিনার কোনো ধরনের অনুশোচনা নেই। তারা জুলাই যোদ্ধাদের অপরাধী হিসেবে তকমা দিচ্ছে। বাংলাদেশের এই গণঅভ্যুত্থানকে তারা জঙ্গি তকমা দিচ্ছে। বাংলাদেশে নাকি জঙ্গিবাদের মধ্যদিয়ে তাদের রাষ্ট্রক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু নেই।
স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের (আওয়ামী লীগ) মধ্যে অনুশোচনা নেই। দোষ স্বীকারের সেই ইতিহাস তাদের নেই। তারা উল্টো বিদেশে বসে এখন গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করছে। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পতন হয়েছে। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে নিপাত হয়েছে, নির্মূল হয়েছে, দাফন হয়ে গেছে দিল্লিতে। সেই আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে আর কোনোদিন রাজনীতি করতে পারবে না।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা আওয়ামী লীগের বিচার দাবি করেছি, তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে আইন সংশোধন করা হয়েছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আছে, আইসিটি অ্যাক্টে আছে- রাজনৈতিক দলের, সংগঠনের বিচার করা যাবে। ইনশাআল্লাহ খুব শিগগির রাজনৈতিক দল হিসেবে দলটিকে বিচারের কাঠগড়ায় নিয়ে যাওয়া হবে।
এ ইউ/














Discussion about this post