রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারের প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি (এনপিট) বা নিউক্লিয়ার নন-প্রোলিফারেশন ট্রিটির একজন প্রতিশ্রুত সদস্য হিসেবে এই অধিকার বহন করে।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) মস্কোতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ল্যাভরভ জানান, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ২০২৫ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি এবং গত সপ্তাহে তুর্কমেনিস্তানে ইরান ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টদের বৈঠকে এ চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক ইস্যু ছাড়াও বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ক আলোচনা হয়েছে। ল্যাভরভ বলেন, চলতি বছরে দুই দেশের মধ্যে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য। তিনি ইরানের সঙ্গে ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের সম্পর্ককেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করেন এবং দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
রাশিয়া ইরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী এবং রাশত-আস্তারা রেল প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে বৈঠকটিতে, যা উত্তর-দক্ষিণ করিডোরের উন্নয়নে সহায়ক হবে। ল্যাভরভ বলেন, আঞ্চলিক ইস্যুতে ইরান-রাশিয়া পরামর্শ খুবই ঘনিষ্ঠ এবং দুই দেশ আন্তর্জাতিক সম্পর্কে গণতান্ত্রিক কাঠামো বিস্তারে কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, ইরান ও রাশিয়া সমমনা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী এবং নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিরসনে আলোচনা করেছে মস্কো ও তেহরান। ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়ে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সদস্য হিসেবে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার রয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেন, সব ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং সমন্বিত চুক্তি স্বাক্ষরের পর অসাধারণভাবে উন্নত হয়েছে ইরান-রাশিয়া সম্পর্ক। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ইরান ও রাশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি অভিন্ন।
দু’দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্কও ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে বলে উল্লেখ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে জ্বালানি ও পরিবহন খাতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ় হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের নতুন খাতও চিহ্নিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। ককেশাস, আফগানিস্তান, ইউক্রেন ও ফিলিস্তিনসহ আঞ্চলিক ইস্যু এবং ইসরায়েলি বাহিনীর অপরাধ নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে।
ইরানের পারমাণবিক ইস্যুতে আরাগচি জানান, ইরান এনপিটির একজন প্রতিশ্রুত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। তবে তারা নিজেদের অধিকার ছাড়বে না। এর মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে পরমাণু শক্তির ব্যবহার ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অন্তর্ভুক্ত।














Discussion about this post