মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্য ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তারা ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে ইসরাইলি দখলকৃত এলাকায় সফল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে এবং ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিশোধ হিসেবে ইয়েমেন একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে দখলকৃত অঞ্চলে। এতে ইসরাইলি সেনা ঘাঁটি ও বসতি এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী ‘প্যালেস্টাইন-২’ নামের একটি সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এটি ইসরাইলি দখলকৃত নেগেভ অঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানে। হামলার খবর শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) হুথি নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টিভির এক বিবৃতিতে জানানো হয়। ইয়েমেনি বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি বলেন, এ হামলা সফল হয়েছে এবং এর ফলে বহু ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী আশ্রয়কেন্দ্রে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনি ড্রোন ইউনিট দুটি আলাদা অভিযান চালায়। এর মধ্যে দুটি ড্রোন ব্যবহার করে এলাত (উম্ম আল-রাশরাশ) সংলগ্ন রামন বিমানবন্দরে আঘাত করা হয়। অপর এক অভিযানে একটি ড্রোন দিয়ে নেগেভ অঞ্চলের আরেকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। ইয়াহিয়া সারি বলেন, এসব অভিযান গাজায় ইসরাইলি কর্মকাণ্ড ও ইয়েমেনের ভূখণ্ডে ইসরাইলি আক্রমণের প্রতিশোধ।
হুথি নেতৃত্ব স্পষ্ট করে জানায়, তারা ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে থাকবে এবং ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাব দিতে সক্ষম। আনসারুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্ক করেন, ইয়েমেনের পাল্টা অভিযান ইসরাইলি দখলকৃত ভূখণ্ডে সেনা ও চরমপন্থি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য আর কোথাও নিরাপদ রাখবে না। ইয়েমেনি গণমাধ্যমের পরিচালক আবদুল্লাহ আল-আহনুমি বলেন, সানার তাহরির স্কোয়ারে ইসরাইলি হামলায় বেসামরিক নাগরিক হত্যার জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে জানান, পাল্টা হামলায় সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর ও বসতি এলাকায় লক্ষ্য করে আঘাত হানা হবে।
ইসরাইলি বিমান হামলার ভয়াবহতা নিয়েও তথ্য প্রকাশ করেছে ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষ। বুধবারের (১০ সেপ্টেম্বর) ওই হামলায় রাজধানী সানার তাহরির পাড়ার বাড়িঘর, শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি চিকিৎসাকেন্দ্র এবং আল-জওফ প্রদেশের হাজমের সরকারি ভবন লক্ষ্যবস্তু হয়। এতে অন্তত তিন ডজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৩০ জনের বেশি আহত হন। এছাড়া সানার সাংবাদিকদের কার্যালয় ধ্বংস হয়, যেখানে কয়েকজন নিহত ও আহত হন। নাগরিক সুরক্ষা দল জানায়, তারা হামলার পর আগুন নিয়ন্ত্রণ ও ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধারে কাজ করছে।
জাতিসংঘ ইয়েমেনে অব্যাহত ইসরাইলি বিমান হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, বিশেষত যখন সর্বশেষ হামলায় তাদের একটি কার্যালয়ের কাছাকাছি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়। এর আগে ২৮ আগস্টের এক হামলায় ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ গালেব নাসের আল-রাহাউই এবং একাধিক মন্ত্রী নিহত হন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় গণহত্যামূলক আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর ইয়েমেনি বাহিনী ইসরাইলের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ জারি করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ইসরাইলের কাছে সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছানো বন্ধ করা এবং একই সঙ্গে বিশ্বকে গাজার মানবিক সংকট মোকাবিলায় উদ্যোগ নিতে বাধ্য করা। এরপর থেকে ইয়েমেন একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে দখলকৃত অঞ্চলে।
ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইসরাইল গাজায় স্থল ও আকাশ হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত তারা এ ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৬৪,৬৫৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।
সূত্র : মেহের নিউজ
এস এইচ/














Discussion about this post