লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলায় দখলদার ইসরায়েলের দুই সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। পৃথক দুটি ঘটনায় তারা প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) রাতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়। লেবানন সরকার ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পরও সীমান্ত এলাকায় এই ধরনের হামলা ও পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে।
নিহত সেনাদের মধ্যে একজনের নাম ক্যাপ্টেন শাহার গামলা। ২৩ বছর বয়সী এই সেনা কর্মকর্তা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ইগোজ ইউনিটের কমান্ডো ব্রিগেডের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) হিজবুল্লাহর চালানো একটি ড্রোন হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। এরপর তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শনিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, শুক্রবার(৫ জুন) সম্পূর্ণ আলাদা একটি ঘটনায় সার্জেন্ট ওহাদ ইয়ারি নামে ২১ বছর বয়সী আরেক ইসরায়েলি সেনা নিহত হন। তিনি সেনাবাহিনীর গিভাতি ব্রিগেডের সাকেদ ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তবে তিনি প্রতিপক্ষের সরাসরি হামলায় নাকি নিজেদের মধ্যকার কোনো দুর্ঘটনাজনিত গোলাগুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রাথমিকভাবে দাবি করেছে, ওহাদ ইয়ারি দুর্ঘটনাজনিত গোলাগুলিতে মারা গেছেন। তিনি ঠিক কীভাবে গুলিবিদ্ধ হলেন, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে আইডিএফ।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী যখন তাদের স্থল ও আকাশপথের ব্যাপক আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে, ঠিক তখনই এই দুই সেনার মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, শুধুমাত্র গতকালই তারা লেবাননের অভ্যন্তরে হিজবুল্লাহর দেড় শতাধিক সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাতভর তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলার জবাবে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকেও ইসরায়েলের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলীয় সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হচ্ছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
এস আই/














Discussion about this post