কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এক গৃহশিক্ষিকাকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছেন ছাত্রীর মা। এতে শিক্ষিকার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার শিক্ষিকার নাম সিঁথি সীমিতা। হামলাকারী প্রিয়া বেগমকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
জানা যায়, ঘটনার রাতেই শিক্ষিকার চাচাশ্বশুর থানায় প্রিয়া বেগমের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জ আদালতে চালান দেয়। গুরুতর আহত শিক্ষিকা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। গ্রেফতার প্রিয়া বেগম ওই এলাকার মতি চান্দের বাড়ির হোটেল ব্যবসায়ী বায়েজিদ মিয়ার স্ত্রী।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, শিক্ষিকা সিঁথি স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষিকা। তিনি শিবপুর ইউনিয়নের গাজিরটেক এলাকার মৃত সুলায়মান মিয়ার মেয়ে। শিক্ষকতার পাশাপাশি টিউশনি করান। প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালে একই এলাকার বায়েজিদ মিয়ার বাসায় তার মেয়েকে পড়াতে যান সিঁথি। পড়ানো শেষ করে চলে আসার পর পুনরায় ফেলে আসা ছাতা আনতে গেলে হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষার্থীর মা প্রিয়া বেগম দা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। এ সময় শিক্ষিকার দুটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এছাড়া তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। সিঁথির চিৎকার শুনে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ প্রিয়া বেগমকে থানায় নিয়ে যায়।
আহত শিক্ষিকার চাচাশ্বশুর ও মামলার বাদী মো. শিশু মিয়া জানান, ‘আমি শুনেছি কয়েকদিন আগে শিক্ষার্থীর মা সিঁথির কাছে ২০ হাজার টাকা ধার চেয়েছিলেন। কিন্তু এত টাকা তার পক্ষে দেওয়া সম্ভব ছিল না। আমাদের সন্দেহ এই ক্ষোভে ও রাগে তিনি তাকে দা দিয়ে কুপিয়েছেন।’
আহত শিক্ষিকার দেবর সারোয়ার বলেন, ভাবিকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার অবস্থার অবনতি হয়। পরে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তার অবস্থা খুব খারাপ।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার উপপরিদর্শক এমদাদুল কবির জানান, ৯৯৯-এ অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মামলা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ইউ/














Discussion about this post