তিউনিসিয়ার দক্ষিণ উপকূলের কাছে অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে দুইজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২২ আগস্ট) রাতের এই ঘটনায় আরও ১২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নৌকাটিতে থাকা একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তিউনিসিয়ার ন্যাশনাল গার্ডের মুখপাত্র হুসেম এদ্দিন জেবাবলি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা টিএপিকে জানান, উদ্ধার করা দুইজনের মরদেহ কাছের জেরবা দ্বীপের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
দেশটির রেডিও মসাইক এফএমকে তিনি জানান, প্রায় ১৫ জনকে নিয়ে নৌকাটি জারজিস ও বেন গেরদানের মধ্যবর্তী কোনো একটি স্থান থেকে যাত্রা করেছিল। পরে রাতের কোনো একসময় তিউনিসিয়ার উপকূল থেকে প্রায় ১৪ নটিক্যাল মাইল বা ২৬ কিলোমিটার দূরে নৌকাটি ডুবে যায়। ন্যাশনাল গার্ডের এই মুখপাত্র জানান, দুর্ঘটনার পর একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
মসাইক এফএমের প্রতিবেদনে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তির বক্তব্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, নৌকাটি বৃহস্পতিবার ভোরে যাত্রা শুরু করেছিল। শনিবার একটি বাণিজ্যিক জাহাজ লাইফ জ্যাকেট পরা অবস্থায় ওই একমাত্র জীবিত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে। আরও জীবিতদের সন্ধানে ঘটনাস্থলে একটি হেলিকপ্টার ও কোস্টগার্ডের কয়েকটি নৌযান পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। ধারণা করা হচ্ছে, নৌকাটি ইতালির উদ্দেশে যাত্রা করেছিল।
এর আগে শনিবার তিউনিসিয়ার মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রেসিডেন্ট মোস্তফা আবদেলকেবির রয়টার্সকে জানান, নিখোঁজ সবাই তিউনিসিয়ার নাগরিক। তিনি বলেন, নৌকাটিতে বেশির ভাগই তরুণ ছিলেন। তাদের মধ্যে একই পরিবারের সাতজন সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া একজন পুরুষ ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীও নৌকাটিতে ছিলেন।
একসময় ইউরোপে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করা অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য তিউনিসিয়া ছিল অন্যতম প্রধান যাত্রাবিন্দু। তবে গত দুই বছরে দেশটি থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর পেছনে রয়েছে দেশটির কঠোর অভিযান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সমর্থনে জোরদার করা সমুদ্র নিয়ন্ত্রণ।
গত জুলাইয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ ৪৬টি মানবাধিকার সংগঠন তিউনিসিয়ার সঙ্গে ইইউর ২০২৩ সালের অভিবাসন চুক্তির সমালোচনা করে যৌথ বিবৃতি দেয়।
সংগঠনগুলোর দাবি, ওই চুক্তির আওতায় তিউনিসিয়াকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের জন্য অর্থ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সমুদ্রে শরণার্থীদের বিরুদ্ধে ‘বেপরোয়া ও সহিংসভাবে বাধা দেওয়া’, ‘সমষ্টিগত ও তাৎক্ষণিক বহিষ্কার’ এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনকে উৎসাহিত ও স্বাভাবিক করে তোলা হয়েছে।
তারা তিউনিসিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত অভিবাসন ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ইইউর অর্থায়ন বন্ধের আহ্বান জানায়।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে ভূমধ্যসাগরে ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে অথবা নিখোঁজ হয়েছে।
এদিকে, তিউনিসিয়ার মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থার আগের এক হিসাব অনুযায়ী, ২০১১ সাল থেকে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে সমুদ্রে নিখোঁজ হয়েছেন প্রায় ১০ হাজার তিউনিসীয় নাগরিক।
সূত্র: আলজাজিরা
এস আই/













Discussion about this post