বাস, লঞ্চ কিংবা ট্রেনে চাহিদামতো মালামাল বহনের জন্য নেওয়া যায় লাগেজ। কিন্তু আকাশে উড়তে চাইলে সেই সুযোগ নেই। কারণ আপনি চাইলেই খেয়াল খুশিমতো লাগেজ নিতে পারবেন না। কিছু জিনিস সঙ্গে নেওয়ার সীমাবদ্ধতা আছে। ব্যক্তির হ্যান্ড লাগেজ ও বুকিং লাগেজ ভেদে আছে নিয়ম।
আপনি হ্যান্ড লাগেজে স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ, মূল্যবান জিনিস, জরুরি কাগজপত্র, ওষুধ নিতে পারবেন। এ ছাড়া যাত্রী ও ক্রুদের বিরক্ত করে এবং নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কিছু হ্যান্ড লাগেজে নেওয়া নিষেধ।
তবে এয়ারলাইনস, গন্তব্য ও ক্লাসভেদে নিয়ম কিছুটা ভিন্নতা আছে। তাই বিদেশ যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের ওয়েবসাইটে গিয়ে লাগেজ সীমা, অনুমোদিত পণ্য ও নিষিদ্ধ সামগ্রীর তালিকা একবার দেখে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, বিমানে কোন জিনিস নেওয়া যাবে, আর কোনো জিনিস নেওয়া যাবে না—
১. কেবিন বা হ্যান্ড লাগেজ
ওজনসীমা : বিদেশগামী যাত্রীরা সর্বোচ্চ ৭ কেজি ওজনের হ্যান্ড লাগেজ নিতে পারেন।
আকারসীমা : হ্যান্ড লাগেজের দৈর্ঘ্য ২০ ইঞ্চি, প্রস্থ ১৫ ইঞ্চি ও গভীরতা ১০ ইঞ্চির বেশি হওয়া চলবে না। এর বেশি হলে সেটি কেবিনে নেওয়া যাবে না, বরং বুকিং লাগেজ হিসেবে দিতে হবে।
যা নেওয়া যাবে : হ্যান্ড লাগেজে রাখা যায় স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ, জরুরি কাগজপত্র, ওষুধ ইত্যাদি।
যা নেওয়া যাবে না : ছুরি, কাঁচি, সুচ, ম্যাচ, লাইটার এবং ১০০ মিলিলিটারের বেশি তরল পদার্থ (যেমন—শ্যাম্পু, পারফিউম, লোশন, স্প্রে, নেইলপলিশ ইত্যাদি) হ্যান্ড লাগেজে নেওয়া নিষিদ্ধ। এ ছাড়া নিরাপত্তা বা যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যে বিঘ্ন ঘটায় এমন কিছু বহন করাও নিষিদ্ধ।
২. বুকিং লাগেজ
আকার ও পরিমাণ : ২৭ ইঞ্চি লম্বা, ১১ ইঞ্চি চওড়া ও ১৪ ইঞ্চি গভীরতার লাগেজ সাধারণত বুকিং লাগেজ হিসেবে ধরা হয়।
বেশিভাগ এয়ারলাইন একজন যাত্রীকে এক বা দুইটি লাগেজ বিনা চার্জে বুকিং করার সুযোগ দেয়।
ওজনসীমা (ক্লাসভেদে)
বিজনেস ক্লাসে : দুটি ব্যাগে মোট ৬০ কেজি (প্রতিটি ৩০ কেজি করে)।
ইকোনমি ক্লাসে : দুটি ব্যাগে মোট ৪০ কেজি (প্রতিটি ২০ কেজি করে)।
দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য : একটি ব্যাগে সর্বোচ্চ ১০ কেজি বহনের অনুমতি আছে। এ ছাড়া শর্তসাপেক্ষে শিশু বহনের স্ট্রলার নেওয়া যায়।
যা রাখা যাবে না: বুকিং লাগেজে স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ, মোবাইল বা ট্যাব, মুদ্রা, মূল্যবানসামগ্রী, পাওয়ার ব্যাংক বা লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহার হয় এমন যন্ত্র রাখা নিষিদ্ধ। এসব হারিয়ে গেলে এয়ারলাইনের কোনো দায় থাকে না।
দাহ্য বা তরল পদার্থ : পারফিউম, সেভিং ফোম, জীবাণুনাশক ইত্যাদি দাহ্য পদার্থ ৫০০ মিলিলিটারের বেশি নেওয়া যাবে না।
ভ্রমণের আগে যা জেনে নেবেন
এয়ারলাইন, গন্তব্য ও টিকিটের শ্রেণিভেদে লাগেজের নিয়ম কিছুটা আলাদা হতে পারে। তাই যাত্রার আগে নিজের এয়ারলাইনের ওয়েবসাইটে গিয়ে লাগেজ সীমা, অনুমোদিত পণ্য ও নিষিদ্ধ সামগ্রীর তালিকা দেখে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
সূত্র : এইচএসআইএ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স
এ ইউ/














Discussion about this post