আফগানিস্তান ক্রিকেটের উত্থানের অন্যতম প্রধান কারিগর ও সাবেক তারকা পেসার শাপুর জাদরান মারা গেছেন । দীর্ঘদিন ধরে একটি বিরল ও মারাত্মক ইমিউন ডিজঅর্ডারের (HLH) সঙ্গে লড়াই করার পর ভারতের দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। মৃত্যুকালে এই গতিময় বাঁহাতি ফাস্ট বোলারের বয়স হয়েছিল ৩৮ বছর। সবচেয়ে বেদনার বিষয় হলো, নিজের ৩৯তম জন্মদিনের ঠিক আগের দিনই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন আফগান ক্রিকেটের এই পরিচিত মুখ। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে।
কয়েক দিন আগেই শাপুরের শারীরিক অবস্থার তীব্র অবনতির খবর প্রকাশ্যে আসে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, গুরুতর অসুস্থতার কারণে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত জানুয়ারি মাস থেকেই ভারতের হাসপাতালে তাঁর এই কঠিন লড়াই চলছিল। মাঝে কিছুটা সুস্থতার আভাস মিললেও পরবর্তীতে অবস্থার আরও অবণতি হয় এবং শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মঙ্গলবার (৭ জুলাই, ২০২৬) শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি。
শাপুর জাদরানের এই অকালপ্রয়াণে ক্রিকেট বিশ্বে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গভীর শোক প্রকাশ করে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এক বার্তায় জানিয়েছে, ‘অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমরা আফগানিস্তানের সাবেক ফাস্ট বোলার শাপুর জাদরানের মৃত্যুর খবর জানাচ্ছি এবং তার বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি’।
আফগান ক্রিকেটের জন্য শাপুর জাদরান নামটি স্রেফ একজন খেলোয়াড়ের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ আর শরণার্থী শিবিরের কঠিন বাস্তবতা পেরিয়ে যে প্রজন্মটি আফগানিস্তানকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত করেছিল, শাপুর ছিলেন সেই সোনালী প্রজন্মের অন্যতম অগ্রদূত। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—দুই সংস্করণেই দেশের প্রতিনিধিত্ব করা এই লম্বা ও দীর্ঘদেহের পেসার তার গতি, আক্রমণাত্মক বোলিং এবং স্বভাবসুলভ উদযাপনের জন্য ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন।
আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরগুলোতে আফগানিস্তানের জায়গা করে নেওয়া এবং পরাশক্তিদের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই করার মানসিকতা তৈরি হয়েছিল তাঁর মতো ক্রিকেটারদের হাত ধরেই। বিশেষ করে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ উইকেটে ব্যাট হাতে শাপুরের মারা সেই জয়সূচক বাউন্ডারি এবং ম্যাচ জেতানোর পর তার আবেগময় উদযাপনের দৃশ্য আফগান ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক রূপকথা হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
দেশের ক্রিকেটে দীর্ঘ ২২ বছরের ত্যাগ ও ভালোবাসার গল্প লিখে অবশেষে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। আজ তার চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে আফগান ক্রিকেটের একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান ঘটলো।
এ ইউ/














Discussion about this post