সাহারা মরুভূমির তীব্র দাবদাহে নাইজারের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি ট্রাক বিকল হয়ে পড়ে। এতে পানি শূন্যতায় ও চরম তৃষ্ণায় কাতর হয়ে অন্তত ৪৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নাইজারের আগাদেজ গভর্নর অফিস থেকে ফেসবুকের মাধ্যমে জানানো হয়, নিহত ব্যক্তিরা একটি মুসলিম ধর্মীয় উৎসবে যোগ দিতে মালি থেকে নিজ দেশে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে মরুভূমির বুকে তাদের বহনকারী গাড়িটি নষ্ট হয়ে গেলে তারা চরম পানি সংকটে পড়েন। আলজেরিয়া সীমান্তের কাছাকাছি এবং নাইজার ও মালির সংযোগস্থল হিসেবে পরিচিত ‘আসামাকা’ নামক সীমান্ত পারাপার কেন্দ্র থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
গভর্নর অফিসের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানিয়ে বলা হয়, তীব্র গরমে পানি ছাড়া অসহায় হয়ে পড়া যাত্রীরা চালক ও তার সহকারীদের নিয়ে গাড়িটি মেরামতের আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। তবে দুর্গম ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে তাদের সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তীব্র তাপমাত্রা এবং আশেপাশে কোনো পানির উৎস বা লোকালয় না থাকায় মরুভূমির বুকেই আটকা পড়েন তারা। চরম প্রতিকূল এই পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত তৃষ্ণার্ত অবস্থায় ৪৯ জন যাত্রী প্রাণ হারান। পরবর্তীতে মৃতদেহগুলোকে মরুভূমির বুকেই গণকবরে দাফন করা হয়েছে।
এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির মাঝেও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন দুইজন যাত্রী। তারা জীবন বাঁচাতে জ্বলন্ত মরুভূমির মধ্য দিয়ে পায়ে হেঁটে প্রায় ৫০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে একটি পানির উৎসের সন্ধান পান। সেখান থেকে পরবর্তীতে তারা আসামাকা সীমান্ত চৌকিতে পৌঁছাতে সক্ষম হন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে পুরো বিষয়টি অবহিত করেন।
উল্লেখ্য, সাহারা মরুভূমির এই দুর্গম অঞ্চলটি আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইউরোপে যাওয়ার অন্যতম প্রধান রুট বা ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছরই এই অঞ্চলে প্রখর রোদ, তীব্র গরম এবং খাবার ও পানির অভাবে অসংখ্য মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকে।
সূত্র: আরব নিউজ
এস আই/














Discussion about this post