রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও হামলা শুরু করেছে ইউক্রেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের উদ্যোগ থেকে সরে আসার কথা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে গেলে কিয়েভ অনির্দিষ্টকালের জন্য পাল্টা হামলা বন্ধ রাখবে না।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাশিয়ার রিয়াজান অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের চালকবিহীন আকাশযানের হামলায় আগুন লাগে বলে জানিয়েছেন অঞ্চলটির গভর্নর পাভেল মালকভ। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, বড় ধরনের এই হামলার পর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন।
এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এরপর ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা থেকে বিরত ছিল। বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোতে হামলাকে দায়ী করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তবে রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছিল জেলেনস্কির। বুধবার (১৪ অক্টোবর) তিনি জানান, রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের ছয় লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত ব্রিটিশ সংবাদপত্র ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে ইউক্রেনের ধৈর্য শেষ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘শোধনাগারে হামলার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। আমরা আর এটা চালিয়ে যাব না।’
সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়ার ব্যবসায়িক চুক্তি করার আগ্রহ এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি ট্রাম্পের ইতিবাচক মনোভাবেরও সমালোচনা করেন জেলেনস্কি। এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) ট্রাম্প ইউক্রেনকে জেলেনস্কির পরিবর্তে নতুন নেতা বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি রাশিয়ার তেল অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলারও সমালোচনা করেন তিনি।
ইউক্রেনের অভিযোগ, তারা রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ রাখলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আগাম সতর্কবার্তা পায়নি। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা আরও বলেছেন, ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্টারলিংকের সামরিক সংস্করণ স্টারশিল্ডের যোগাযোগসেবা দেশজুড়ে ধীর হয়ে যাওয়ায় যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যক্রম এবং রাশিয়ার সামরিক স্থাপনায় মাঝারি পাল্লার হামলা ব্যাহত হয়েছে।
তবে স্টারশিল্ডের গতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন ইলন মাস্ক। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, এই সামরিক যোগাযোগব্যবস্থার মালিক ও নিয়ন্ত্রক যুক্তরাষ্ট্র সরকারই। এর গতি সীমিত করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্তও তাদের।
জেলেনস্কির দাবি, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ না করলে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে ইউক্রেনের সামরিক কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে জেলেনস্কি বলেন, হামলা বন্ধ রাখার বিষয়টিকে কিয়েভের কাছে শুরুতে কারিগরি সমস্যা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। তবে স্টারলিংক ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে এমনটি হয়েছে—এ ব্যাখ্যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তার ভাষায়, ‘এটি কারিগরি সমস্যা ছিল না, এটি ছিল ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে জেলেনস্কিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি আরও প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র পেলে তিনি এমন সিদ্ধান্তে রাজি হতে পারেন।
তিনি এই সহায়তাকে গ্রহণযোগ্য সমঝোতার ন্যূনতম শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর ফেব্রুয়ারি থেকে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় তা কমানোর চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত সপ্তাহে রাশিয়ার কাছ থেকে সীমিত পরিমাণে ডিজেল আমদানির জন্য কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার উদ্যোগও ঘোষণা করা হয়। তবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিয়েভের টানাপোড়েনের কারণে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
সূত্র: রয়টার্স
এস আই/














Discussion about this post