খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কের একটি মেসে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেনকে মারধরের পর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহত আজমুলের বাবা কুতুবউদ্দিন বাদী হয়ে হরিণটানা থানায় মামলাটি করেন।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের (খাজা হল) বিপরীতে ইসলামনগর সড়কের মসজিদ গলির একটি মেসে চুরির অভিযোগ তুলে আজমুলকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি মেসটির চতুর্থ তলার ছাদ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে আজমুল মেসে মিল না দিয়েও খাবার খেয়ে ফেলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এবং পরে চুরির অভিযোগ তুলে মেসের কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় কয়েকজন তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে ভবনের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, আজমুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছু সময় পর তার মৃত্যু হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের আশঙ্কা করা হলেও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
আজমুলের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সময় তাদের কাছে ফোন করে ১ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। পরে ওই ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা চারজনই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি আরও বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। অন্যের পোশাক ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।
এ ইউ/














Discussion about this post