২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) আশ্রয়ের আবেদনের সংখ্যা কমেছে। তবে একই সময়ে বাংলাদেশিদের আশ্রয়ের আবেদন বেড়েছে ১৩ শতাংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আশ্রয় সংস্থা (ইইউইএএ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়েতে মোট ৩ লাখ ৩১ হাজার ৫৫৮টি আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বা আশ্রয়ের আবেদন জমা পড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ১৭ শতাংশ কম। অর্থাৎ ইউরোপে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা কমার যে প্রবণতা শুরু হয়েছিল, তা অব্যাহত রয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের আশ্রয় সংস্থা (ইইউইএএ) বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের আশ্রয় আবেদনের ওপর তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের পর কোনো ছয় মাসের সময়ে এত কম আশ্রয় আবেদন জমা পড়েনি।
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সিরিয়ায় চলমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে আশ্রয়প্রার্থীদের গঠনে পরিবর্তন এবং উৎস ও ট্রানজিট দেশগুলোর সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতার প্রচেষ্টার কারণে এই প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
আবেদনকারীদের মধ্যে আফগানরা এখনও শীর্ষে
আশ্রয়প্রার্থীদের জাতীয়তার হিসাবে আফগানরা এখনও সবচেয়ে বেশি। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রায় ৩৯ হাজার আফগান আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। ২০২৫ সালে আবেদনকারীর সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফগানদের আবেদন কমেছে।
আফগানদের পরেই রয়েছেন ভেনেজুয়েলার নাগরিকরা। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ৩৩ হাজার ভেনেজুয়েলান আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ কম। এসব আবেদনের প্রায় সবই স্পেনে জমা পড়েছে।
বেড়েছে বাংলাদেশিদের আবেদন
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি ইউরোপীয় ইউনিয়নে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশিদের আবেদন বেড়েছে ১৩ শতাংশ।
তবে বাংলাদেশিদের আশ্রয়ের আবেদন বাড়লেও এর অর্থ এই নয় যে, তাদের সুরক্ষা বা আশ্রয় পাওয়ার হারও বাড়বে। কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের আশ্রয় ও অভিবাসন চুক্তি নিয়ে আলোচনার সময় বাংলাদেশকে নিরাপদ দেশ হিসেবে বিবেচিত দেশগুলোর তালিকায় রাখা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের আশ্রয় পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
ইইউইএএ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশকে নিরাপদ উৎস দেশ হিসেবে চিহ্নিত করার অর্থ হলো বাংলাদেশি নাগরিকদের আবেদন প্রধানত দ্রুততর প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা করা হবে। কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে তাদের আবেদন সীমান্তভিত্তিক প্রক্রিয়ার আওতায়ও নেওয়া হতে পারে।
ইইউএএএ জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি আশ্রয়ের আবেদন করলেও তাদের মধ্যে মাত্র তিন শতাংশের আবেদন গৃহীত হয়েছে এবং বাকি ৯৭ শতাংশ আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
কার্যকর হয়েছে আশ্রয় ও অভিবাসন চুক্তি
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের পাশাপাশি সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ের মধ্যে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি আশ্রয়ের আবেদন পেয়েছে ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন ও জার্মানি।
ফ্রান্সে প্রায় ৬৯ হাজার, ইটালিতে ৬৬ হাজার, স্পেনে ৫৫ হাজার এবং জার্মানিতে ৫৫ হাজার আশ্রয়ের আবেদন জমা পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আশ্রয় সংস্থা জানিয়েছে, এই চার দেশ মিলে মোট আশ্রয় আবেদনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ গ্রহণ করেছে।
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে আশ্রয় আবেদন গ্রহণের হার ছিল ৩১ শতাংশ। ২০২৫ সালে এই হার ছিল ২৯ শতাংশ। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় গ্রহণযোগ্যতার হার সামান্য বেড়েছে। তবে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এই হার কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ১২ জুন ইউরোপীয় আশ্রয় ও অভিবাসন চুক্তি কার্যকর হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় থাকা বিভিন্ন নিয়মের উদ্দেশ্য হলো, কারা আশ্রয় পাওয়ার সম্ভাবনা রাখেন এবং কারা নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার আওতায় পড়তে পারেন, তা দ্রুত চিহ্নিত ও আলাদা করা।
চুক্তির আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের সীমান্ত দিয়ে অনিয়মিতভাবে প্রবেশ করা আশ্রয়প্রার্থীদের, যাদের ভিসা বা বৈধভাবে থাকার অনুমতি নেই, অপেক্ষমাণ এলাকায় রাখা হবে। সেখানে তাদের নিবন্ধন করা হবে এবং পরিচয়, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।
গ্রিস, ইতালি ও স্পেনের মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রে এসব পরীক্ষা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের সীমান্তে হবে। অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বন্দর ও বিমানবন্দরে এসব পরীক্ষা করা হবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী যেসব আশ্রয়প্রার্থীর আশ্রয় পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে কম অথবা যারা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন, তাদের দ্রুততর বা ‘অ্যাক্সিলারেটেড’ প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হবে।
এ ধরনের আবেদনকারীদের সীমান্তের অপেক্ষমাণ এলাকায় রাখা হবে। আবেদন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের ইউরোপীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস
এ ইউ/














Discussion about this post