ইউরোপের দেশগুলো কৌশলগতভাবে রাশিয়াকে পরাজিত করতে পারবে না বলে দাবি করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপের বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক সিজোফ্রেনিয়া’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন পুতিন। রুশ বার্তা সংস্থা তাসের বরাতে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, ইউরোপের দেশগুলো একদিকে রাশিয়ার হুমকি নিয়ে কথা বলছে, অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতির বিষয়ে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে। তাঁর দাবি, ইউরোপের দেশগুলো রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে যেতে চায় না, রাশিয়াও তাদের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চায় না।
পুতিন আরও বলেন, অতীতে যারা রাশিয়াকে পরাজিত করতে চেয়েছিল, তাদের মতো বর্তমানেও সংশ্লিষ্টরা একসময় বুঝতে পারবেন, রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই ভালো।
ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরুর প্রস্তুতি
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে পুতিন বলেন, ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পুনরায় শুরু করতে রাশিয়া সম্মত হয়েছে। এ আলোচনায় রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে।
এর আগে পুতিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ জানিয়েছিলেন, ১০ নভেম্বরের পর আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে।
পুতিন বলেন, ইউক্রেন সংঘাতের সমাধান খুঁজতে রাশিয়া আলোচনার মাধ্যমে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। ইউক্রেনকে ‘ভ্রাতৃপ্রতিম জাতি’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি রুশ ও ইউক্রেনীয়দের একই জনগোষ্ঠীর অংশ বলেও দাবি করেন।
জেলেনস্কি সরকারকে পুতিনের সমালোচনা
সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরকারেরও সমালোচনা করেন পুতিন। তাঁর অভিযোগ, ইউক্রেনের সরকার নিজেদের নাগরিকদের যুদ্ধক্ষেত্রে ‘কামানের গোলার খাদ্য’ হিসেবে ব্যবহার করছে। ইউক্রেনীয়দের জোর করে ধরে নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে কি না, প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের দূতের সঙ্গে বৈঠক
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে বুধবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব এগিয়ে নেওয়া এবং বৃহত্তর আলোচনার পথ তৈরি করাই বৈঠকের লক্ষ্য ছিল।
এর আগে নরওয়ের অসলোতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গেও বৈঠক করেন উইটকফ। এসব বৈঠকের মধ্য দিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে কূটনৈতিক উদ্যোগ নতুন করে গতি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে আলোচনার সুনির্দিষ্ট ফলাফল সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।
এস আই/














Discussion about this post