ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে এক সপ্তাহের শোক কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ কোম, মাশহাদ এবং ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় বিভিন্ন দাফন ও শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হওয়ার পর খামেনির দাফনকে ঘিরে লাখো মানুষকে একত্র করার পরিকল্পনা নিয়েছে ইরানের সরকার। এর মাধ্যমে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি জনগণের সমর্থন ও ঐক্যের বার্তা দিতে চায় দেশটির নেতৃত্ব।
সরকারের পক্ষ থেকে শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে মানুষের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন হোটেলে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাস, ট্রেনসহ গণপরিবহন শোকযাত্রীদের সুবিধার জন্য বিশেষভাবে পরিচালনা করা হবে। অনেক স্কুল, মসজিদ ও ক্রীড়া কেন্দ্রেও থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানের একটি মসজিদ থেকে খামেনির মরদেহ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের শেষযাত্রা শুরু হবে। একই হামলায় নিহত তার মেয়ে, জামাতা, নাতনি এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনির স্ত্রীকেও একই সঙ্গে শেষ বিদায় জানানো হবে।
সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানে বড় শোকমিছিলের পর মরদেহ নেওয়া হবে কোম শহরে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সেখানে শোকানুষ্ঠান হবে। এরপর বুধবার (৮ জুলাই) ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারের পাশে খামেনিকে দাফন করা হবে।
ইরানের কর্মকর্তারা বলছেন, এই শোকানুষ্ঠান শুধু ধর্মীয় নয়, বরং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি জনগণের সমর্থনেরও একটি বড় বার্তা হবে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের কারণে সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ সরকারের প্রতি অসন্তুষ্ট। খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তেহরানের কিছু এলাকায় উল্লাসের শব্দও শোনা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দাফনকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তেহরানসহ কয়েকটি শহরের আকাশসীমায় সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে কঠোর জবাব দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
সূত্র: রয়টার্স
এস আই/














Discussion about this post