সান দিয়েগো চিড়িয়াখানার সবচেয়ে প্রবীণ সদস্য এবং দর্শনার্থীদের অত্যন্ত প্রিয় গ্যালাপাগোস কচ্ছপ ‘গ্র্যামা’ ১৪১ বছর বয়সে মারা গেছেন। দীর্ঘ জীবনে গ্র্যামা দুটি বিশ্বযুদ্ধ এবং ২০ জন মার্কিন রাষ্ট্রপতির শাসনকাল প্রত্যক্ষ করেছেন।
গত ২০শে নভেম্বর এই কচ্ছপটির মৃত্যু হয় বলে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে রোমান লেটুস এবং ক্যাকটাস ফল খেয়ে জীবন কাটানো গ্র্যামাকে তার যত্নকারীরা ভালোবেসে ‘চিড়িয়াখানার রানী’ বলে ডাকতেন। বার্ধক্যজনিত হাড়ের রোগে ভুগছিলেন তিনি। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে যন্ত্রণার অবসান ঘটাতে তাকে ইচ্ছামৃত্যুর মাধ্যমে শান্তি দেওয়া হয়।
চিড়িয়াখানার কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, গ্র্যামার জন্ম তার আদি বাসস্থানে। তিনি ঠিক কবে সান দিয়েগোতে এসেছিলেন তা স্পষ্ট না হলেও ধারণা করা হয়, ১৯২৮ বা ১৯৩১ সালে ব্রঙ্কস চিড়িয়াখানা থেকে আসা প্রথম গ্যালাপাগোস কচ্ছপ দলের অংশ ছিলেন তিনি।
মিষ্টি ও লাজুক স্বভাবের গ্র্যামা তার জীবদ্দশায় অসংখ্য দর্শনার্থীকে আনন্দ দিয়েছেন। অনেক দর্শনার্থী জানিয়েছেন, তারা ছোটবেলায় গ্র্যামাকে দেখেছিলেন এবং পরবর্তীতে তাদের সন্তানদের নিয়েও তাকে দেখতে এসেছেন।
৬৯ বছর বয়সী ক্রিস্টিনা পার্ক স্মৃতিচারণ করে বলেন, শৈশবে তিনি গ্র্যামার পিঠে চড়েছিলেন, যা তাকে কচ্ছপ সংরক্ষণে অনুপ্রাণিত করেছিল।
গ্যালাপাগোস কচ্ছপ সাধারণত বন্য পরিবেশে ১০০ বছরের বেশি এবং বন্দী দশায় এর দ্বিগুণ সময় বাঁচতে পারে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ ইউনিয়নের মতে, এই প্রজাতির কচ্ছপ বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ বা বিপন্ন। তবে গত কয়েক দশকে সমন্বিত প্রজনন প্রচেষ্টার ফলে ১৯৬৫ সাল থেকে ১০,০০০-এর বেশি কিশোর কচ্ছপকে বন্য পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক গ্যালাপাগোস কচ্ছপ ছিল হ্যারিয়েট, যে ১৭৫ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়া চিড়িয়াখানায় মারা যায়।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
এস এইচ/














Discussion about this post