সুদূর ল্যাটিন আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ে, যেখানে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়তে দেখা যায়, সেখানে এখন রয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গড়ে তোলা এক অনন্য স্থাপনা। বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির প্রতিষ্ঠিত মসজিদ। এটি শুধু একটি মসজিদই নয়, বরং প্রবাসে ধর্মীয় পরিচয়, ঐক্য ও আত্মমর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
ল্যাটিন আমেরিকার মতো অঞ্চলে একটি মসজিদ নির্মাণ কোনো সহজ কাজ ছিল না। নানা প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্যারাগুয়ের বাংলাদেশি কমিউনিটি দৃঢ় সংকল্পে এগিয়ে গেছে। নিজেদের সীমিত সামর্থ্য নিয়েই তারা নির্মাণ করেছেন এই পবিত্র ঘরটি।
কমিউনিটির এক সদস্য জানান, আমরা নিজেরাই যার যা ছিল তাই দিয়েই এই মসজিদটা তৈরি করি। এক একটি ইট, পাথর, কনস্ট্রাকশনের সবকিছু আমাদের হাত দিয়েই হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ।
মসজিদ প্রাঙ্গণে একসঙ্গে দুলছে প্যারাগুয়ে ও বাংলাদেশের পতাকা, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবস্থান ও শেকড়ের প্রতীক হিসেবে গর্বের সঙ্গে স্থাপন করা হয়েছে। কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি শেষে এই মসজিদ হয়ে উঠেছে প্রবাসী মুসলমানদের প্রশান্তি ও ঐক্যের কেন্দ্র। এখানে ওজু থেকে নামাজ পর্যন্ত প্রতিটি আমল সম্পন্ন হয় শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে। মসজিদের ইমাম ধর্মীয় দিকনির্দেশনার পাশাপাশি প্রচার করেন শান্তি, ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতার বার্তা, যা পুরো কমিউনিটিকে এক সুতায় গেঁথে রেখেছে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এটি প্যারাগুয়ের একমাত্র মসজিদ যেখানে মাইকে আজান দেওয়া যায়। কমিউনিটির সদস্যরা একে আল্লাহর বিশেষ রহমত হিসেবে দেখছেন। তাদের ভাষায়, এটা একমাত্র মসজিদ যেখানে আমরা মাইকে আজান দিই, আলহামদুলিল্লাহ, এটি আল্লাহর রহমত।
কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজেদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ অটুট রাখার এই প্রয়াস নিঃসন্দেহে এক অনুপ্রেরণার গল্প। প্যারাগুয়ের বাঙালি মুসলিম কমিউনিটি প্রমাণ করেছে, ঐক্য, ত্যাগ ও বিশ্বাস থাকলে প্রবাসেও শেকড় ছড়িয়ে দেওয়া যায় আল্লাহর ঘরের ছায়ায়। সূত্র: ল্যাটিন বাংলা
এম এইচ/














Discussion about this post