কমতে থাকা জন্মহার এবং তরুণদের বিদেশে চলে যাওয়ার প্রবণতা মোকাবিলায় নতুন প্রণোদনা কর্মসূচি চালু করেছে ভুটান সরকার। নতুন নীতিমালার আওতায় পরিবারের তৃতীয় বা পরবর্তী প্রতিটি সন্তানের জন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
ভুটানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিবিএস জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে জনসংখ্যা হ্রাসকে দেশের জন্য একটি ‘অস্তিত্বের সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করে গত জুনে ‘থার্ড চাইল্ড প্লাস’ কর্মসূচি চালু করেন।
এই কর্মসূচি অনুযায়ী, কোনো পরিবারে তৃতীয় বা পরবর্তী সন্তান জন্ম নিলে শিশুর বয়স তিন বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে ১০৫ মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৯ হাজার গুলট্রাম করে দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভুটানে বর্তমান প্রজনন হার জনসংখ্যার ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় মাত্রার নিচে নেমে গেছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দেশটি শ্রমশক্তি ও দক্ষ জনবলের সংকটে পড়তে পারে।
ভারত ও চীনের মাঝামাঝি অবস্থিত হিমালয়ঘেরা দেশ ভুটানের জনসংখ্যা বর্তমানে ৮ লাখেরও কম। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি নারীর গড় সন্তান জন্মদানের হার ১ দশমিক ৮, যেখানে জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজন অন্তত ২ দশমিক ১।
একই সঙ্গে দেশটিতে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ শতাংশের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। ২০৫০ সালের মধ্যে এই হার ১৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু মাসিক আর্থিক সহায়তা জন্মহার বাড়াতে যথেষ্ট নাও হতে পারে। তাদের মতে, সন্তান লালন-পালনের উচ্চ ব্যয়, শিক্ষা, বাসস্থান ও শিশুর যত্নের মতো দীর্ঘমেয়াদি খরচ বিবেচনায় আরও বিস্তৃত সামাজিক নিরাপত্তা ও সহায়ক নীতি প্রয়োজন।
এস আই/














Discussion about this post