ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবে কর্মরত কয়েকজন মার্কিন কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত কয়েকটি মার্কিন মিশন থেকে পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলায় প্রাণহানি ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সৌদি আরবে শুধু জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন—এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হুথিরা সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। এতে হতাহতের পাশাপাশি যাতায়াতব্যবস্থায়ও বিঘ্ন ঘটছে।
রয়টার্সকে চার মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য কয়েকটি দেশেও মার্কিন মিশন থেকে কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। তবে সৌদি আরবের বাইরে অন্য মিশনগুলোতে পরিবর্তনের বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
এদিকে, মার্কিন কর্মীদের সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশের আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) দেশটির দাম্মাম শহরের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার খবর জানায় সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। ওই হামলায় একজন নিহত এবং আটজন আহত হন।
এর আগে সৌদি আরবের শায়বাহ তেলক্ষেত্রে সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনায় হামলার চেষ্টা করা হয়। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, স্থাপনাটিকে লক্ষ্য করে আসা একটি চালকবিহীন আকাশযান প্রতিহত করার পর দুইজন নিহত হন।
এদিকে বুধবার (২১ অক্টোবর) রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সম্ভাব্য আরও হামলার বিষয়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে। এর আগে সৌদি রাজধানীর বিমানবন্দরেও প্রাণঘাতী হামলা হয়েছিল। মার্চের শুরুতে রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস ও সেখানে অবস্থিত কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার একটি কার্যালয়ও চালকবিহীন আকাশযানের হামলার শিকার হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইয়েমেনে সংঘাত বেড়ে যাওয়ার মধ্যেই মার্কিন কূটনীতিকদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত এলো। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সাম্প্রতিক হামলা ও নতুন নিরাপত্তা সতর্কতার কারণে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনা এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
এস আই/














Discussion about this post