নিখোঁজের এক দিন পর তুরাগ নদ থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের আলোচিত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া সংক্রান্ত একটি পুরোনো প্রসঙ্গ। যদিও বেঁচে থাকতে গত জুলাই মাসে এক পডকাস্টে এই অভিযোগকে ‘প্রমাণহীন’ বলে নাকচ করেছিলেন তাহসিফ নিজেই। তবে তার মৃত্যুর পর নৌবাহিনীর এক বন্ধুর ফেসবুক পোস্ট ঘটনাটিকে নতুন মোড় দিয়েছে এবং রাজনৈতিক কোন্দলের সন্দেহ জাগিয়ে তুলেছে।
গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় শেখ হাসিনার দেশত্যাগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। পরবর্তীতে গুঞ্জন ওঠে যে, বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি ওই ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই অভিযোগের জেরে তাকে বিমানবাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল বলেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলে।
তবে মৃত্যুর তিন মাস আট দিন আগে গত ২১ জুলাই ‘Speak With Rashid’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত পডকাস্টে এসব অভিযোগের জবাব দিয়েছিলেন তাহসিফ। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি তার চাকরিচ্যুতি ও অন্যান্য বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারের শেষ পর্যায়ে উপস্থাপক শেখ হাসিনার পালানোর ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাহসিফ এটিকে নিছক একটি ‘প্রমাণহীন অভিযোগ’ বলে উড়িয়ে দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল রিফাত আশরাফী ভিডিওটি করেছেন এবং তিনি তা ছড়িয়ে দিয়েছেন। তাহসিফ প্রশ্ন রেখেছিলেন, ‘আমি যদি ভিডিওটা করেও থাকি, ছড়িয়েও থাকি, হোয়াট ইজ দ্য প্রুভ দে আর হ্যাভিং?’
উপস্থাপক যখন জানতে চান যে ভিডিওর কারণেই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল কি না, তখন তাহসিফ সরাসরি হ্যাঁ বা না না বলে বলেন, ‘হতে পারে। যে ঘটনাগুলো ওই সময় ঘটেছিল… আমারও কিছু অপরাগতা আছে। আমার মনে হয়, এই অভিযোগের কারণে তারা এই জিনিসটা করেছে।’
বন্ধুর চাঞ্চল্যকর স্ট্যাটাস ও সন্দেহ
এদিকে তাহসিফের মৃত্যুর পর তার বন্ধু এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত কে এস এম ইন্তেসার ইনজিমাম ফেসবুকে একটি আবেগঘন ও সন্দেহজনক পোস্ট দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, তাহসিফই সেই ভিডিও ভাইরাল করার নেপথ্যে ছিলেন।
ইনজিমাম তার পোস্টে লিখেছেন, ‘ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি। হাসিনার ভিডিও ভাইরাল করার সঙ্গে জড়িত এই ছেলেটার লাশ আজকে তুরাগ নদীতে ভেসে আসছে।’ বন্ধুর লাশের শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে তিনি আরও উল্লেখ করেন, লাশের হাতে কাদা মাখা থাকলেও বাকি অংশ পরিষ্কার ছিল, যা সাধারণ কোনো দুর্ঘটনা বা ব্যক্তিগত কোন্দল নয় বরং রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত দেয়।
পোস্টে আরও বলা হয়, আদমজী কলেজ ও বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (৭৯ বিএমএ কোর্সমেট) একসঙ্গে পড়ার সুবাদে তাহসিফের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল। ৫ আগস্টের ভিডিও ফাঁসের পর তাহসিফের মানহানি করা হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো পুলিশি মামলা হয়নি। ইনজিমামের দৃঢ় বিশ্বাস, এই মৃত্যুর সঙ্গে ৫ আগস্টের সেই হেলিকপ্টার ভিডিও ফাঁসের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে।
এ ইউ/














Discussion about this post