বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালিতে এবার নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও টোল পদ্ধতি চালু করেছে ইরান। তেহরানের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্যে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখন থেকে এই কৌশলগত জলপথ ব্যবহার করতে হলে জাহাজগুলোকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কাছ থেকে পূর্বানুমতি নেওয়ার পাশাপাশি গুণতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের অর্থ।
আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি নতুন ‘যাচাইকরণ ও নিবন্ধন’ পদ্ধতি কার্যকর করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার আওতায় যেকোনো জাহাজকে ওই জলসীমা অতিক্রম করার আগে তেহরানের কাছে বিস্তারিত তথ্য জমা দিয়ে অনুমতি নিতে হবে।
সংবাদমাধ্যম ও সামুদ্রিক বিশ্লেষণ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ইরান এই জলপথে এক ধরনের ‘নির্বাচিত অবরোধ’ আরোপ করেছে। বর্তমানে ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ও চীনের মতো নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজকে বিশেষ বিবেচনায় চলাচলের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে এই সুযোগ পেতে জাহাজগুলোকে বড় অঙ্কের মাশুল দিতে হচ্ছে। সামুদ্রিক তথ্য প্রদানকারী সংস্থা ‘লয়েডস লিস্ট’ জানিয়েছে, সম্প্রতি একটি ট্যাঙ্কার এই পথ দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি পেতে প্রায় ২০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ২৪ কোটি টাকা) টোল পরিশোধ করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই নতুন শর্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে বীমা খরচ বৃদ্ধি, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং গন্তব্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা জাহাজ মালিকদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদে এই পদ্ধতি কার্যকর হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
সূত্র: দ্য ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেস
এম এইচ/














Discussion about this post