ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে দেশটির ওপর আবারও জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা আরোপ ঠেকাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে জানিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বলেছেন, তেহরান কখনোই পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করবে না।
বুধবারের এ বক্তব্য এসেছে এমন সময়ে, যখন যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি (ই-থ্রি নামে পরিচিত) ৩০ দিনের একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যার মেয়াদ ২৭ সেপ্টেম্বর শেষ হবে। ওই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে আনা।
ই-থ্রির অভিযোগ, তেহরান ২০১৫ সালের সেই চুক্তি মানছে না, যার উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা।
তারা জানিয়েছে, ইরান যদি জাতিসংঘের পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেয়, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে উদ্বেগ দূর করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসে, তাহলে তারা ছয় মাস পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা স্থগিত রাখতে রাজি।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জাতিসংঘে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পর এক্স-এ লিখেছেন,
“একটি চুক্তি এখনো সম্ভব। হাতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। আমরা যে বৈধ প্রশ্ন তুলেছি, তার জবাব দেওয়া এখন ইরানের দায়িত্ব।”
ইরান এর আগে বলেছে, ২০১৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে যাওয়া এবং জুন মাসে ইরানের ওপর বিমান হামলা চালানোই তাদের অঙ্গীকার শিথিলের কারণ।
পেজেশকিয়ান ইউরোপীয়দের ‘অসৎ উদ্দেশ্যে’ অভিযুক্ত করে বলেন, ট্রাম্প চুক্তি ভেঙে দেওয়ার পর ইরানের প্রতিক্রিয়াই ছিল সহযোগিতা কমানোর কারণ।
তিনি বলেন, “তারা নিজেদের ভালো পক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করেছে, অথচ ইরানের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে খাটো করেছে।”
জাতিসংঘে ভাষণে পেজেশকিয়ান আরও অভিযোগ করেন, ই-থ্রি আসলে “যুক্তরাষ্ট্রের ইশারায়” কাজ করছে।
তিনি বলেন, “এভাবে তারা সদিচ্ছা বিসর্জন দিয়েছে। আইনি বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়া ও ইউরোপের ব্যর্থতার প্রতিক্রিয়ায় ইরান যে বৈধ প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে, সেটিকে তারা বড় ধরনের লঙ্ঘন হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছে।”
মঙ্গলবার প্রচারিত এক ভাষণে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি আবারও বলেন, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। তার ভাষায়, “এটা আলোচনা নয়, এটা চাপিয়ে দেওয়া।”
নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ হলে ইরানের বিদেশি সম্পদ জব্দ হবে, দেশটির অস্ত্রচুক্তি বন্ধ হবে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি শাস্তির মুখে পড়বে।
১২ দিনের যুদ্ধ
নিজের ভাষণে পেজেশকিয়ান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক হামলারও নিন্দা করেন, যা ১২ দিনের যুদ্ধ উসকে দেয়।
সে যুদ্ধে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন এবং দেশটির প্রতিরক্ষা দুর্বল হয়ে পড়ে।
ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক হাজারের বেশি ইরানি নিহত হয়। ইরানের দাবি, এভাবে তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল, যা পারমাণবিক কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে ‘আত্মরক্ষার’ নামে চালানো হয়েছে।
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর সার্বভৌমত্বকে অগ্রাহ্য করছে। লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন ও কাতারসহ একাধিক দেশে হামলা চালিয়েছে দেশটি। তবে ইরানে সাম্প্রতিক হামলা ছিল এ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান, যা পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে তেহরানকেও হামলা চালাতে বাধ্য করে।
সূত্র: আল জাজিরা
এম এইচ/














Discussion about this post