জনগণের পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। এ নির্বাচনে ভোটার হবেন সংসদ সদস্যরা। সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ আসন থাকায় দলটি যাকে মনোনয়ন দেবে, তিনিই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ফলে নতুন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নামও আলোচনায় এসেছে।
মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে থাকবেন। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সেই সময়সীমার ক্ষণগণনা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি জনগণের পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন। অর্থাৎ জনগণ সরাসরি ভোট দেবেন না; নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই ভোটার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে।
এদিকে, দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন তা নিয়েই চলছে ব্যাপক আলোচনা। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া সংবিধান অনুযায়ী অধিকাংশ দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে পালন করেন।
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা। তাদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। তারা সবাই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। এ ছাড়া সাবেক আমলা ও সাবেক প্রধান বিচারপতিদের নামও আলোচনায় রয়েছে।
বিএনপি যাকেই মনোনয়ন দেবে, তিনিই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। কারণ, ৩৫০ সদস্যের সংসদে দলটির সংসদ সদস্য রয়েছেন ২৪৭ জন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন বলেন, সংসদীয় দলগুলো তাদের প্রার্থী ঘোষণা করবে। বিএনপি তাদের প্রার্থী দেবে, জামায়াতে ইসলামীও চাইলে প্রার্থী ঘোষণা করতে পারে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট যার পক্ষে থাকবে, তিনিই নির্বাচিত হবেন। সে হিসেবে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে তাদের প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ এখানে প্রযোজ্য নয়। ফলে সংসদ সদস্যরা চাইলে অন্য কোনো প্রার্থীকেও ভোট দিতে পারেন। কারণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সংসদের অন্যান্য কার্যক্রম থেকে ভিন্ন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সংবিধানে এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত দলই আলোচনার মাধ্যমে নেবে। দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হলে প্রার্থীও দলেরই হবেন। এরপর নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বিষয়টি জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে।
রাষ্ট্রপতির মনোনয়ন বিএনপির ভেতর থেকেই হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।
সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একমাত্র ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।
এ ইউ/














Discussion about this post