পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ঘোষণা করেছেন, আন্তর্জাতিক শান্তি পরিকল্পনার আওতায় ফিলিস্তিনে একটি শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করা হবে, যেখানে পাকিস্তানের অংশগ্রহণকে ‘জাতীয় গর্বের বিষয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।
ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসহাক দার জানান, গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আটটি দেশ একযোগে নিবিড়ভাবে কাজ করেছে। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত শান্তিরক্ষী বাহিনীর বেশিরভাগ সদস্য হবেন ফিলিস্তিনি নাগরিক। পাকিস্তান থেকে শান্তিরক্ষী বাহিনীতে কারা থাকবেন, সে সিদ্ধান্ত নেবে দেশের নেতৃত্ব।
তিনি আরও জানান, ফিলিস্তিনে গঠিতব্য টেকনোক্র্যাট সরকারের মধ্যেও ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। এই প্রক্রিয়ায় সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে ‘গ্লোবাল পিস এনভয়’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া ইতোমধ্যে ২৬ হাজার সদস্যের একটি বাহিনী দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে, তবে পাকিস্তানের অবদান সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা ঘোষণার সঙ্গে এই শান্তি পরিকল্পনার কোনো মিল নেই। মুসলিম বিশ্বের আটটি দেশের যৌথ বিবৃতি এবং প্রস্তাবিত সংশোধনীকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ স্বাগত জানিয়েছে।
ইসহাক দার জানান, শান্তিরক্ষী বাহিনীর নেতৃত্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে না দিয়ে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ বাহিনী গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে মুসলিম দেশগুলো। এই সংশোধিত খসড়া মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তৈরি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আটটি মুসলিম দেশ একমত হয়েছে, পশ্চিম তীর ও গাজা একসাথে থাকবে—ইসরায়েলের অবস্থান যাই হোক না কেন। শান্তি আলোচনায় সরাসরি ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সংলাপ হয়নি, বরং প্রকৃত ক্ষমতা যার হাতে, তার সঙ্গেই যোগাযোগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই প্রক্রিয়ায় সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন বলেও জানান ইসহাক দার। আটটি দেশই ১৯৬৭ সালের আগের সীমান্ত অনুযায়ী ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান চায়।
যদিও হামাস এখনও প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। দার আরও বলেন, পাঁচটি আরব দেশ নিশ্চিত করেছে, হামাস এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করবে না।
তিনি বলেন, আটটি দেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সম্মিলিতভাবে গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে কাজ করছে। শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে, যেখানে মানবিক সহায়তা ও যুদ্ধবিরতির বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
শান্তি উদ্যোগের বিরোধীদের সমালোচনা করে ইসহাক দার বলেন, যারা এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন, তারা কি সহিংসতাই চায়? তিনি বলেন, গাজায় নিরীহ ফিলিস্তিনিরা এখনও অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়ছে, তাই এ বিষয়টি রাজনীতিকরণের পরিবর্তে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা উচিত।
সূত্র: সামা টিভি
এম এইচ/














Discussion about this post